নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনি রোডম্যাপ নিয়ে কথা বলায় ইসি’র প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার আগে নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে দলটি।
নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধি ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে রোববার (২০ এপ্রিল) দুপুরে আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপি’র পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে বৈঠক চলে সোয়া ২টা পর্যন্ত।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। এনসিপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও তাজনূভা জাবীন।
বৈঠক শেষে এনসিপির সার্বিক আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা অনেকগুলো কথা ইসি থেকে শুনতে পাই। যেগুলো আমাদের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুনিনি। রোডম্যাপের কথা শুনিনি, এগুলো ইসি থেকে এসেছে। এ জন্য আমরা বলবো- কোনো জায়গায় কথা বলার জন্য ইসি নিজেদের জায়গায় সতর্ক থাকবেন।
নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সিইসি এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও কথা বলেনি। তবে নির্বাচন কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট কেউ এ ব্যাপারে কথা বলে থাকতে পারে। বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তারপরও আমরা বলবো, সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলার আগে যেন তারা এ বিষয়ে কিছু না বলেন। কারণ এতে বিভ্রান্তি হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা যে কথা বলেছেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন-সে বিষয়ে কাজ শুরু করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিন্তু রোডম্যাপ বা সরকার থেকে কোনো দিক নির্দেশনা আসার আগেই যখন তারা নিজেদের থেকে কথা বলে থাকেন সেজন্য আমরা সন্দেহ পোষণ করি। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্ট আসার পরে যদি উনারা থাকতে পারলে থাকবে না থাকতে পারলে থাকবে না।
মনোনয়নপত্র শরীরে জমা দেওয়া, দল নিবন্ধন নবায়ন, দল নিবন্ধনের সময় বাড়ানো, ঋণখেলাপি ও হলফনামায় ভুল তথ্য দিলে সদস্যপদ বাতিলসহ অন্তত দশটি দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারে কাছে তুলে ধরেছে এনসিপি।
দুই ঘণ্টা ব্যাপী এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, আইন সংস্কারসহ অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে দলটির প্রতিনিধিরা। ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদন আসার পরই তা বাস্তবায়নের বিষয়ে জোর দিয়েছে নতুন দলটি।
এনসিপির নিবন্ধনেরর বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন দল হিসেবে নিবন্ধন সংক্রান্ত আমাদের অনেক কাজ বাকি রয়েছে। অনেক জায়গায় আমাদের অফিস গোছানোর কাজ চলছে। আমরা চাই, আমাদের দলে যেন ফ্যাসিবাদের দোসরদের কেউ স্থান না পান। তাই আমরা সব যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে চাই। এ জন্য গত ১৭ এপ্রিল নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর একটি চিঠি দিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে বিবেচনার কথা বলেছেন সিইসি।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে নামে-বেনামে বা একই নামে বিভিন্ন দলের নিবন্ধন দিয়ে গেছে বিগত সরকার। আমরা ২০২২ সালের সার্চ কমিটির বিরোধিতা করছি। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী যদি সংস্কার করা না হয়, তারপর আমরা এ বিষয়ে কথা বলবো।
পাটোয়ারী বলেন, আমরা বলেছি গত ১৫ বছর যারা নির্বাচনে জালিয়াতি করেছে, তাদের যেন বিচারের আওতায় আনা হয়। আমরা চাই, এবার যেন শিক্ষক ও ইমাম থেকে শুরু করে সমাজের পরিশীলিত ধারার ব্যক্তিরা নির্বাচন করার সুযোগ পান।
তিনি বলেন, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সার্টিফিকেশন দিতে বলেছি। মামলা যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় তাও বলেছি। তারা এ বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশ হওয়ার পরও ভোটে জালিয়াতি প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট বিজয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনি ব্যয় বিধিমালা ও আচরণবিধি পরিবর্তনের কথাও বলেছি। ভোটে পেশিশক্তি রোধের বিষয়টি দেখার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোট কিনে যেন ভোটাধিকারে বাধা না দেওয়া হয় এবং ঋণ খেলাপিরা যেন ভোটে অংশগ্রহণ না করতে না পারেন, তাও বলেছি। তিনি বলেন, সিইসি এসব বিষয় বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
Leave a Reply